29.10.2026

প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর: সংবিধান সংশোধনে সরকারের অবস্থান

0
salauddin
Spread the love

প্রধানমন্ত্রী পদে কোনো ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা মোট ১০ বছরের বেশি দায়িত্ব পালনের সুযোগ না রাখার প্রস্তাবের পক্ষে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় একজন ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবটি নিয়ে বিরোধী দল বা অন্য কোনো পক্ষের বিকল্প মতামত থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হতে পারে। সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার জন্য সরকারের দরজা খোলা রয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েও আলোচনা
বিশেষ কমিটির বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা ও অন্যান্য গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও বিশেষ কমিটি মতবিনিময় করেছে। এসব আলোচনায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন
সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সম্পাদক ও সাংবাদিকদের একটি অংশও। তাদের মতে, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘জুলাই সনদ’-এর কোনো বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা সম্ভব। তবে সে জন্য বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটির আলোচনায় অংশ নিতে হবে।
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—ক্ষমতার মেয়াদ সীমিত করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা।

Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *